November 30, 2021

Recent Job Circular

Your trusted job portal

গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায়


সূচনাঃ

দেশে বর্তমানে শ্রমশক্তির আকার ৬ কোটি ৩৫ লক্ষ মানুষ । এর মধ্যে ৬ কোটি ৮ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছে। আর বাকি ২৭ লক্ষ মানুষ বেকার। সংখ্যাটি কিন্তু আকারে কম নয়। এটি হচ্ছে করনার পরিস্থিতির আগের পরিসংখ্যান। এর মধ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব মতে, করনায় এই বেকারত্বের হার বেড়েছে ১০ গুন। অতএব বর্তমানে ২ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ বেকার।

এই বেকারত্ব একটি মানুষ, পরিবার তথা সমাজের জন্য কতটা ভয়ানক বিষয় তা যারা এর ভুক্তভোগী তারাই বলতে পারবে। তবে এর মধ্যে আশার বাণী হচ্ছে নতুন নতুন অনেক জীবিকার মাধ্যম বেরিয়ে আসছে দিন দিন যার মাধ্যমে অনেক সংখ্যক মানুষ বেকারত্বের এই অভিশাপ থেকে বাঁচছে।

ফ্রিল্যান্সিং এমনই একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষ আজ নিজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছে। এটি এমন একটি পেশা যার মাধ্যমে আপনি ঘরে বসে দেশ বিদেশের বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানির সাথে কাজ করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য প্রথমেই আপনার যেটি দরকার তা হলো কোনো নির্দিষ্ট একটি সেক্টরে পারদর্শী হয়ে ওঠা, কোনো নির্দিষ্ট একটি দক্ষতা খুব ভালোভাবে অর্জন করা। এর মধ্যে খুব সম্ভাবনাময় একটি সেক্টরের নাম হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং। আজকে আমরা মুলত এই গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো।  আপনি যদি এই সেক্টরে নতুন হন তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি এবং কিভাবে শিখবেন?

গ্রাফিক্স ডিজাইন মুলত কোনো তথ্য বা ম্যাসেজকে সৃজনশীলতা দিয়ে চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা। অনেক সময় দেখা যায় কোনো একটি মনোভাব যা লিখতে গেলে দুই তিন পৃষ্ঠা লেগে যায় সেটি একটি ছোট্ট চিত্রের মাধ্যমে খুব সহজেই প্রকাশ করা যায়। আর ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে শুরু করে বড় বড় কোম্পানির ফিজিক্যাল যেসব মার্কেটিং হয় (যেমন ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন, পোষ্টার, হ্যান্ডবিল, লিফলেট ইত্যাদি) তার সব ক্ষেত্রেই গ্রাফিক্স ডিজাইনের ভুমিকা অনেক।

গ্রাফিক্স ডিজাইন ছাড়া এসব সেক্টর পুরো অচল কারন এখন খাতা কলমের যুগ আর নেই। মানুষ সবকিছুই কম্পিউটার প্রিন্টেড(Printed) চায়। এই সেক্টরটি এখন চাহিদার শীর্ষে তাই আপনার কাজ পেতে তেমন কোনো সমস্যা হবে না আপনি যদি আসলেই ভালো কাজ জানেন।

এখন আসা যাক, কিভাবে শিখবেন গ্রাফিক্স ডিজাইন? খুবই সহজ বিষয়; এক্ষেত্রে আপনার শুধু একটি কম্পিউটার লাগবে। ডেক্সটপ হলে ভালো হয় যেটাতে ন্যূনতম Adobe Photoshop, Adobe Illustrator, এবং সেম ক্যাটাগরির কিছু আপ্লিকেশন (Application) চালানোর মতো কম্প্যাটিবিলিটি(Compatibility) থাকবে এবং সাথে ইন্টারনেট কানেকশন।

আপনি দুই ভাবে শিখতে পারবেন গ্রাফিক্স ডিজাইনিং। প্রথমটি হলো নিজে নিজে ইয়টিউব দেখে। বর্তমানে গুগল এবং ইউটিউব হচ্ছে দুনিয়ার সবথেকে বড় শিক্ষক। আপনি যা চাইবেন এখানে তাই পাবেন। অনেক মানুষের বানানো টিউটোরিয়াল (Tutorial) পেয়ে যাবেন। আপনার যেটা পছন্দ সেটা থেকে আপনি শিখতে পারবেন।

আর দ্বিতীয় মাধ্যম হচ্ছে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে কোর্স করা। আপনি বর্তমানে অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পেয়ে যাবেন যারা খুবই সল্প মূলে এসব অনলাইন ভিত্তিক কোর্স পরিচালিত করছে। এইসব প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ঘুড়ি-লার্নিং(Ghoori-Learning) বর্তমানে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

যাইহোক, এই দুটি মাধ্যমের মধ্যে আপনার জন্যে সুবিধাজনকটি বেছে নিয়ে শুরু করতে পারেন আপনার গ্রাফিক্স ডিজাইনের যাত্রা।

গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায়ঃ

গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে আপনি বড় বড় মার্কেটপ্লেস গুলোতে বেশ ভালো পেমেন্ট রেটে কাজ করতে পারবেন। Freelancer, Upwork, Fiver ইত্যাদি হচ্ছে সবথেকে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস বর্তমান বিশ্বে। এছাড়াও আপনি লোকাল ক্লায়েন্টদের থেকেও কাজ নিয়ে কাজ করতে পারবেন।

বাংলাদেশে ফ্রিলান্সারদের একটি কমিউনিটি আছে। তাই এক্ষেত্রে রেফারেন্সের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি কাজ পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি দেশি বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানিতেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিস্তারিত সবকিছু নিচে আলোচনা করা হলোঃ

লোগো ডিজাইন

বর্তমানে ছোট, বড় ও মাঝারি সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের-ই নিজস্ব একটি লোগো আছে। বলতে গেলে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মূল প্রতিক যার মাধ্যমে কোনো ব্যবসাকে মানুষ আলাদা ভাবে চিনবে। এছাড়াও বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব লোগো প্রয়োজন। এসব লোগো তৈরির কাজ অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে খুবই প্রচলিত।

আপনি যদি এক্ষেত্রে সৃজনশীলতা দেখাতে পারেন তাহলে বেশ বড় অংকের ইনকাম আপনি শুধু লোগো ডিজাইন থেকেই করতে পারেন। বড় বড় কোম্পানি গুলো নিজেদের লোগোর সামান্য আপডেটের জন্য মিলিয়ন ডলার খরচ করে থাকে। তাই আপনি যদি একজন দক্ষ লোগো ডিজাইনার হতে পারেন, বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস গুলোতে বেশ ভালো ভাবেই রাজত্ব করতে পারবেন।    

টি-শার্ট ও মগ ডিজাইন

মার্কেটপ্লেস গুলোতে টি-শার্ট ও মগ ডিজাইনের কাজও অনেক দেখা যায়। তো আপনি ওখান থেকে কাজ নিয়ে করতে পারেন আবার গার্মেন্টস কোম্পানিগুলো মাঝে মাঝে ফ্রিলান্স ডিজাইনার খোঁজ করেন। এগুলা সাধারনত কন্ট্রাক্টের হয় ।  এভাবে দেশি বিদেশি কোম্পানির সাথে কাজ করতে পারবেন আপনি।

এছাড়াও আপনি নিজে নিজেও নিজের ডিজাইনের টি-শার্ট ও মগ বানিয়ে বিক্রি করতে পারেন। অনলাইনে এখন অনেক ব্যবসা বিদ্যমান। আপনি যদি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র হন সেক্ষেত্রে নিজের প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে টি-শার্ট বানিয়ে বা কলেজের বিভিন্ন খেলাধুলা বা অনুষ্ঠানের টি-শার্ট বানিয়ে আপনার সহপাঠীদের কাছে বিক্রি করে বেশ ভালো ইনকাম করতে পারবেন।

এখনতো অনলাইনে টি-শার্ট এর ডিজাইন বিক্রিও হয়। মোট কথা আপনার কাজের কোনো অভাব এ সেক্টরে হবে না। আপনি শুধু কোনো একটি কাজে দক্ষ হন।

ফন্ট তৈরি

আপনারা এখন যে লেখাটি পড়ছেন, এটি নির্দিষ্ট একটি ফন্টে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। এটি একটি ফ্রি ফন্ট মাইক্রোসফট প্রদত্ত। কিন্তু এখন নতুন নতুন অনেক ফন্ট বার হচ্ছে যেগুলো বেশ ভালো দামে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে কিনতে পাওয়া যায়। এগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন লেখায় এবং ডিজাইন সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হয়। তো আপনি চাইলে এরকম নিজে বিভিন্ন ফন্ট বানিয়ে ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন।

ডিজাইন টেমপ্লেট বিক্রি

বর্তমানে বিভিন্ন টেম্পলেট অনলাইনে পাওয়া যায় যেগুলো কিনে জরুরি সময়ে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন ধরুন আগামিকাল আপনার একটি প্রেজেন্টেশন আছে অফিসে কিন্তু কোনো স্লাইড এখনো তৈরি করা হয়নি। অথবা মনে করেন আগামিকাল আপনার ইন্টারভিউ আছে কিন্তু কোনো সিভি এখন তৈরি করেন নি আপনি।

এইসব জরুরি মুহূর্তে আপনি চাইলেই একটি টেম্পলেট কিনে সেখানে আপনার দরকারি ইনফর্মেশন দিয়ে সেটিকে ব্যবহার করতে পারেন। তো এইসব বিভিন্ন টেম্পলেট আপনি নিজে বানিয়ে বিক্রি করতে পারেন।  

ওয়ার্ডপ্রেস টেমপ্লেট বিক্রি

ওয়ার্ডপ্রেস বর্তমানে ওয়েব ডিজাইনের অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি টুল। অনেক চাহিদা রয়েছে এই টুলের পুরো বিশ্ব জুড়ে। ভালো ওয়ার্ডপ্রেস টেম্পলেট এক হাজার ডলার পর্যন্ত বিক্রি হয়। আপনি চাইলে খুব সহজেই নিজে এই টেম্পলেট বানিয়ে বিক্রি করে সেখান থেকেও অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন সামগ্রীর ডিজাইন

বিজ্ঞাপন সামগ্রীর চাহিদা সবসময়ই অনেক বেশি। বিজ্ঞাপন সামগ্রী বলতে এখানে বোঝনো হচ্ছে মূলত ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন, পোষ্টার, হ্যান্ডবিল, লিফলেট ইত্যাদি। এগুলোর চাহিদা কখনো ফুরানোর নয়। তো সবসময়ই প্রায় এসব কাজ মার্কেটে পাওয়ায় যায়। আর আপনি কাজ করতে করতে আস্তে আস্তে ক্লায়েন্ট দের সাথে পরিচিত হয়ে যাবেন।

আসলেই যদি আপনার কাজ ক্লায়েন্টের ভালো লেগে থাকে তাহলে তিনি চাইবেন সকল কাজ আপনারে দিয়ে করাতে। তাই যদি এসকল জিনিস বানানোর কাজও আপনার চয়েজে রাখতে পারেন।  এছাড়াও ব্র্যান্ডিং সামগ্রী যেমন, বিজনেস কার্ড বা বিভিন্ন প্যাকেজিং সামগ্রীর ডিজাইনের কাজ করেও আপনি বেশ ভালো অংকের অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

স্টক মার্কেট

বিভিন্ন ডিজাইন স্টক মার্কেটের কথা শুনে থাকবেন বা দেখে থাকবেন যেমন, Shutterstock, Pixels, freepic ইত্যাদি। এসব ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ছবি পাওয়া যায় যা কিনে বিভিন্ন কাজে পরবর্তীতে ব্যভহার করা যায়। তো আপনি চাইলেও এরকম ছবি বানাতে পারেন এবং এসব ওয়েবসসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে আপলোড দিয়ে বিক্রি করতে পারেন।  

ইউটিউবিং

গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে আপনি যখন দক্ষ হয়ে যাবেন তখন আপনি চাইলে অন্যদের শেখাতে পারেন এবং তার থেকে উপার্জনও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ইউটিউব এর মাধ্যমে শেখানো সবথেকে বেশি লাভজনক হবে কারন মাসে বেশ ভালো অংকের ইনকাম করা সম্ভব সেখান থেকে। এর জন্য আপনাকে শুধু স্ক্রিন রেকর্ড করে ভিডিও বানিয়ে তাতে ভয়েস ক্লিপ এড করে আপলোড দিতে হবে ইউটিউব-এ।

এফিলিয়েট মার্কেটিং

এরপরে ইউটিউব-এ আপনি যে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখাবেন, এটার মাধ্যমে চাইলে আবার এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন। এর জন্য আপনার বিভিন্ন এফিলিয়েট প্লাটফর্ম যেমন, Amazon, Alibaba ইত্যাদিতে অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন পন্যের তথ্য ও লিঙ্ক এনে ভিডিওতে সংযুক্ত করতে পারেন। এরপর যখন আপনার দেওয়া লিঙ্ক থেকে কেও পণ্য কিনবে, আপনি নির্দিষ্ট একটি পরিমান কমিশন পাবেন সেখান থেকে।

শেষ কথা

তো এই ছিল মূলত গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে ফ্রিল্যান্সিং করার উপায়। এছাড়াও আরও কিছু মাধ্যম থাকতে পারে। কিন্তু এখানে প্রদত্ত উপায় গুলো সবথেকে বেশি লাভজনক এবং জনপ্রিয়। আশা করি আর্টিকেলটি পরে সবকিছু বুঝে গিয়েছেন। এখন আপনার বেছে নেওয়ার পালা যে আপনি কোন মাধ্যমটা বেছে নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন।


Translate »